মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১১:১২ অপরাহ্ন [gtranslate]
Headline
Headline
মধুপুরে জৈব কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত আমতলীতে ‘হিটস্ট্রোকে’ নারীর মৃত্যু কম খরচে বেশি লাভের আশায় নীলফামারীতে বাড়ছে বাদামের চাষ বাস-ট্রাককে জরিমানা করায় অভয়নগরে টায়ার জালিয়ে সড়ক অবরোধ তীব্র গরম ও তাপদাহে অতিষ্ঠ মধুপুরবাসী বাড়ছে নানা রোগ টাঙ্গাইলের মধুপুরে লিংকেজ সভা অনুষ্ঠিত আমতলীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ,হাসপাতালে তীব্র শয্যা সংকট ডিমলায় বাসদ মাহবুব এর সভা সমাবেশ শ্রীপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীকে স্বর্ণের পুরুস্কার দিলো মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পটিয়ার বড়লিয়ায় বৃদ্ধর উপর হামলার অভিযোগ  উপজেলা নির্বাচনে ঝালকাঠি সদর ১০জন ও নলছিটিতে ১৪জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র জমা নীলফামারীতে পাখির বাসার কারনে রক্ষা পেলো আনসার ভিডিপি ক্যাম্প, বসতঘর এবং কয়েকটি দোকান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে -২০২৪ আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কাপাসিয়ায় ৮ প্রার্থীকে শোকজ মধুপুরে ঈদপুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত গাজীপুরে বনে জবরদখল উচ্ছেদে উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে সাংবাদিক কে প্রাণনাশের হুমকি, নিরাপত্তায় জিডি জামিন চেয়ে আবারও আবেদনের প্রস্তুতি মিন্নি’র ঝিকরগাছার পল্লীতে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে থানায় অভিযোগ কালিয়ায় ছয় বাড়িতে দুর্বৃত্তের তান্ডব পটিয়ায় পৃথক সড়ক  দুর্ঘটনায় নিহত ৪
সত্তরোর্ধ্ব স্কুল শিক্ষিকা উর্মিলার পাশে দাড়ালেন গাউছিয়ার মানবিক কমিটি
/ ৩৯ Time View
Update : সোমবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৩, ৭:০০ অপরাহ্ন

সেলিম চৌধুরী নিজস্ব সংবাদ দাতাঃ-
একসময়ের নামকরা স্কুলের শিক্ষিকা উর্মিলা ভট্টচার্য্য। শিক্ষকতা করতেন চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। থাকতেন ভাড়া বাসায়। সেখানেও কয়েকজন শির্ক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতেন। মাসিক বেতনে দুই জন কর্মচারীও ছিল তার। ৮ বছর আগে ২০১৪ সালে অবসরে গেছেন তিনি। অবসরকালে পেয়েছেন পেনশনের এককালীন প্রায় ৩০ লাখ টাকা। স্বামী-সন্তান কেউ না থাকায় পেনশনের সব টাকাই ভাই-বোনদের হাতে তুলে দিয়েছেন। ঊর্মিলার আশা ছিল ভাই, বোন, ভাতিজারা তার শেষ সময়ে পাশে থাকবেন। তারপরও শিক্ষিকা উর্মিলা ভট্টচার্য্য দত এক মাস ধরে নিঃসঙ্গ ভাবে হাসপাতালের বেডে পরে রয়েছেন। একদিকে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা অপরদিকে নিঃসঙ্গতায় তার শারিরীক অবস্থা আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে।
কিন্তু স্বজনরা কেউ দেখা না দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পটিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও।
সত্তরোর্ধ্ব উর্মিলা ভট্টচার্য্য পেট ব্যাথার সমস্যা নিয়ে গত ২ জানুয়ারি ভর্তি হন পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এরপর শারিরীক অবস্থার উন্নতি হলে ১৫ জানুয়ারি তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতাল ছেড়ে যাননি তিনি।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা জেরিন প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, ভর্তির পর থেকে রোগীর কোন স্বজন হাসপাতালে আসেননি। আমরা সরকারী সকল ওষুধসহ চিকিৎসা সেবা দিয়েছি। ছাড়পত্র দেওয়ার পরও তিনি হাসপাতালের বেড ছাড়েননি। এদিকে তার অবস্থা দিন দিন অবনতি হচ্ছে। বেড ছেড়ে কোথাও নিজে যেতে পারছেন না। আমরা রোগীর আপন ভাই অমর কৃষ্ণ এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করেছি। তিনি ঢাকায় আছেন জানিয়ে বলেন ‘আমার কিছুই করার নেই’। এর পর আমরা গাউছিয়া কমিটিকে খবর দিই। বর্তমানে নার্সদের পাশাপাশি গাউসিয়া কমিটির সদস্যরাও ওই রোগীর সেবা যতœ করছেন।
হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্স শাহিদা পারভীন জানান, এ রোগী কিছুদিন ধরে হাটা চলা করতে পারছেন না। বেডের মধ্যেই পায়খানা-প্রশ্রাব করছেন। যার কারনে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দুর্গন্ধে পাশের বেডের রোগীদেরও সমস্যা হচ্ছে।
পটিয়া উপজেলা গাউছিয়া কমিটি মানবিক টিমের সচিব মাওলানা মো. ইছাহাক ও সদস্য মো. মাসুদ রানা জানান, হাসপাতালের ডা. ফারহানা জেরিন গত ১৭ জানুয়ারি আমাদেরকে খবর দিলে ওই দিন থেকেই আমরা এসে ওই রোগীকে সেবা দিচ্ছি। তবে তিনি একজন মহিলা। তাছাড়া তিনি বেডের মধ্যেই পায়খানা-প্রশ্রাব করছেন। যার কারনে আমাদের সেবা দিতে নানামূখী সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। জীবনের শেষ সময়টুকুতে তার স্বজনদের কেউই পাশে নেই। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
জানতে চাইলে অসুস্থ উর্মিলা ভট্টচার্য্য জানান, তিনি আগ্রাবাদ শিশু নিকেতনে শিক্ষকতা করতেন। অবসরকালীন প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা এককালীন পেনশন পেয়েছেন। যা তার ভাই বোনদের দিয়েছেন। ওই টাকায় তারা পুকুর করেছেন জমি কিনেছেন। কিন্তু তিনি তা ভোগ করছেননা। কয়েকদিন আগে তার এক বোনের ছেলে হাসপাতালে এসেছেন। তাকে ২ হাজার টাকা দিয়ে চলে গেছেন। ভাই-বোনেরা খবর নিচ্ছে না।
হাসপাতালের ভর্তি সংক্রান্ত নথিতে উর্মিলা ভট্টচার্য্যরে ঠিকানা জানা যায়, পটিয়া উপজেলার ছনহরা মটপাড়া এলাকার বিশে^শ^র ভট্টচার্য্যরে মেয়ে উর্মিলা। নথিতে উল্লেখ রোগীর বোন পুতুল ভট্টচার্য্যরে ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তারা ৯ বোন ২ ভাই। তার ছোট ভাই অমরকৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য দেশের বাড়ীতে থাকেন। অন্য ভাই রবীন্দ্র ভট্টাচার্য্য পরিবার-পরিজন নিয়ে ভারতে রয়েছেন। বোনেরা সবাই স্বামীর-সংসারে রয়েছে এর মধ্যে উর্মিলা বিয়ে করেননি। আমরা যার যার পরিবার নিয়ে নিজেরা ব্যাস্ত। কিছু দিন আগে আমার স্বামী মারা গেছেন। এ নিয়ে আমি মানসিকভাবে খুব কষ্টে আছি। তবে আমার ভাই বলেছেন, উর্মিলার জন্য প্রয়োজনে একজন লোক নিয়োগ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসা করানোর জন্য। তার বেতনসহ চিকিৎসার প্রয়োজনীয় টাকা তিনি দিবেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সব্যসাচী নাথ জানান, গত ২ জানুয়ারী থেকে ঊর্মিলা ভট্টাচার্য্যকে সরকারি ভাবে খাবার, ঔষুধ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের কেউ তার সাথে যোগাযোগ না করায় আমরা তাকে নিয়ে বিপাকে পড়েছি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Our Like Page
April 2024
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031