সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:৩১ অপরাহ্ন [gtranslate]
Headline
Headline
পটিয়ায় গরু চোর চক্রের সক্রিয় ৪ সদস্য গ্রেফতার।। ৫টি গরু ও ১টি ছাগল উদ্ধার আমতলী পৌর নির্বাচনে বর্তমান ও সাবেক মেয়রের ভোট যুদ্ধে অনুপম হালদারের ..কেভ আর্ট ২০২৪…নবম তম একক সৃজনশীল ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী শুভ সূচনা পটিয়ার কাশিয়াইশ ভান্ডারগাও প্রতিপক্ষের হামলায় আহত-৪: থানায় অভিযোগ রাণীনগর হাসপাতালে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিলেন ডাঃ মাহফুজুর রহমান নয়ন যশোরে নামযজ্ঞা অনুষ্ঠানে প্রসাদ গ্রহণকে কেন্দ্র করে ৯ম শ্রেনির ছাএ নিহত;আহত-৩ নওগাঁর মান্দায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রায় ছয় বিঘা ফসলের জমি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে গাজীপুরে ভাওয়াল আইডিয়াল পাবলিক স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরুস্কার বিতরণ পুর্ব খিতাপচরে ভূমিদস্যুরা জাফর আহমদের পরিবার ওপর হামলা,রান্না ঘর ভাংচুর, থানায় অভিয়োগ দায়ের ১৫১ তম জন্মদিন পালিত হল, কলকাতা ট্রাম‌ ওয়েজেযর পটিয়ার বড়লিয়া হযরত আশকর শাহ্ (রহ.) ওরশ ও মিলাদ মাহফিল সম্পন্ন রামপালে মরিয়ম বেগম মেমোরিয়াল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার’র উদ্বোধন ঝিকরগাছা থানার দু’এএসআইসহ এক কনস্টেবলের বিদায় সংবর্ধনা যশোর থেকে যাত্রা শুরু করলো এশিয়ার প্রথম প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড মডিউলার ডেটা সেন্টার ‘সাইফার’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য মনির হোসেনের স্মরণে কালীগঞ্জে আলোচনা ও দোয়া বরগুনা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংসদ গোলাম সরোয়ার টুকু’র শুভেচ্ছা বিনিময় ডাসার প্রেসক্লাবের ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা। নড়াইলে যুব সংঘ মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগ পটিয়ায় তিনদিন ব্যাপি বইমেলায় অংশ নিয়েছেন চক্রশালা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী
স্বপ্নের কৃষি পদক ছোঁয়ার দাঁড়প্রান্তে ঝিকরগাছার সফল নারী উদ্যোক্তা নাসরিন সুলতানা
/ ১৫১ Time View
Update : রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১, ১:১৭ অপরাহ্ন

শাহাবুদ্দিন মোড়ল ঝিকরগাছা :
কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদনে স্বপ্নের কৃষি পদক ছোঁয়ার দাঁড়প্রান্তে যশোরের ঝিকরগাছার সফল নারী উদ্যোক্তা নাসরিন সুলতানা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মেধাশক্তির মাধ্যমে ক্রমাগতই তিনি ভাগ্য বদলিয়েই চলেছে। একজন নারী উদ্যোক্তা হিসাবে সফলতা পেতে বর্তমানে ঝিকরগাছা উপজেলায় নাসরিন সুলতানার নাম উজ্জ্বল করেছেন তার কর্মদক্ষতাকে মূল্যায়ন করে। নাসরিন সুলতানা যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে। তার মায়ের নাম শিউলী বেগম। দুই ভাই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। নাসরিন সুলতানা উপজেলার দিগদানা খোশালনগর দাখিল মাদরাস্ াকারিগরি এবং কৃষি কলেজে ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার শিক্ষা কার্যক্রমের উপর ডিপ্লোমা কোর্স শেষ করার পাশাপাশি জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে ঝিকরগাছা মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে অনার্সের (সম্মান) সমাপ্ত করেছেন। তিনি কেঁচো কম্পোস্ট (ভার্মি কম্পোস্ট) সার কারখানার মালিক। নাসরিন সুলতানা কেঁচো কম্পোস্টের (ভার্মি কম্পোস্ট) মাধ্যমে তৈরি করছেন জৈবসার। এই সারের চাহিদা ক্রমশই বাড়ছে। তবে বিনিয়োগ বাড়াতে না পাড়ায় উৎপাদন বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। তার মতে, ৮-১০লক্ষ টাকার বিনিয়োগ করতে পারলে তিনি উৎপাদন বাড়াতে পারতেন আরো কয়েকগুণ। এতে এলাকার বাহিরের অন্যান্য কৃষকদেরও চাহিদা মতো ভার্মি কম্পোস্ট সারের জোগান দিতে পারতেন তিনি। জৈবসার ব্যবহারে জমির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি ফসলের ফলনও বৃদ্ধি হয় অনেকগুণ। নাসরিন সুলতানার কারখানায় প্রতি নান্দায় (মাটিরপাত্র) প্রতি মাসে তৈরি হয় ৭৫০-৮০০কেজি জৈবসার। কারখানায় নান্দা রয়েছে ১৫০টি। সে এই জৈবসার বিক্রয় করে নিজের লেখপড়ার খরচ যোগান দিয়ে ঝিকরগাছা মহিলা ডিগ্রি কলেজে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স (সম্মান) শেষ করেছেন। পিতার সংসার থেকে নেওয়ার চেয়েও সংসারেও আর্থিক যোগান দেন তিনি। কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরি ও বিক্রি করে অভাবী পিতামাতার সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এসেছে। নাসরিন প্রমাণ করে দিয়েছেন মেয়েরা কখনো পিতামাতার সংসারের বোঝা নয়। তারাও তাদের নিজের ইচ্ছাশক্তি ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে হতে পারেন সফল উদ্যোক্তা। ঝিকরগাছার নাসরিন সুলতানা হতে পারে আমাদের যশোর জেলার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ! পাঁচবছর আগে ১০০ গ্রাম কেঁচো দিয়ে দু’টি নান্দায় দু’ঝুড়ি গোবর দিয়ে কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরির প্রাথমিক ধাপের যাত্রা শুরু করেছিল। প্রথমদিকে সহপাঠী, প্রতিবেশীরা উপহাস করলেও এখন তারা রীতিমত উৎসাহের পাশাপাশি অনেকেই আবার নিজেই এই কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
নারী উদ্যোক্তা নাসরিন সুলতানা বলেন, ২০১৬ সালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বোধখানা বøকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আইয়ুব হোসেনের হাতে খড়ির মাধ্যমে আমি মাত্র একশত পঞ্চাশ টাকা দিয়ে ১০০ গ্রাম কেঁচো, দু’টি নান্দা (মাটিরপাত্র), দু’ঝুড়ি গোবরের মাধ্যমে জৈবসার তৈরি শুরু করি। প্রথম বছরে আমার যে সার তৈরি হয়েছিল সেটা আমার পিতার জমিতে ব্যবহার করেছিলেন। ১০০ গ্রাম কেঁচো থেকে বর্তমানে ১৫০টি নান্দায় কেঁেচা রয়েছে ৪৫-৫০কেজি। এক কেজি কেঁচোর দাম এখন ১৫০০/- টাকা। গত বছর কেঁচো কম্পোস্ট (ভার্মি কম্পোস্ট) সার তৈরির জন্য আমি একটি চালা (সেড) তৈরি করি। একটি চালা (সেড) এ ১৫০টি নান্দার জন্য চালা তৈরি, মাঁচা, বেড়া ও ছাউনী ঘেরা দিয়ে মোট খরচ হয় প্রায় ১৫-২০হাজার টাকা। আমাদের সংসারে পিতার ৮টি গরু আছে। ফলে আমার গোবর কিনতে হয় না। প্রতিটি নান্দায় ২০০ গ্রাম কেঁচো আর একঝুড়ি গোবর দিলে তা থেকে ২০-২৫ দিনের মাথায় ১৯৫-২০০কেজি জৈবসার তৈরী করা সম্ভব। এককেজি জৈব সার বিক্রয় হয় ১০-১৫টাকা। পাশাপাশি প্রতি নান্দা থেকে ৩মাস অন্তর ২-৩ কেজি কেঁচো বিক্রি করা যায়। আমাদের এলাকার চাষীরা তাদের ফসল, নিরাপদ (বিষমুক্ত) সবজী উৎপাদন করতে প্রায় ৬০-৭০ ভাগ জমিতে এখন কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করছেন। এই সার সকল ফসলে ব্যবহার করা যায়। আমার এই কারখানা থেকে প্রতিমাসে প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকা আয় হয়। কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদনে আমি আমার স্বপ্ন কৃষি পদক পাওয়ার বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। আমি আমাদের উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতি চিরোকৃতজ্ঞ।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, নাসরিন সুলতানা আমাদের একজন সফল কৃষক। তাকে আমরা একটি প্রর্দশনী দিয়েছি। কেঁচো কম্পোস্ট বা জৈব সার তৈরি করে আমাদের পরিবেশবান্ধব ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেচলেছে। বর্তমান সময়ে রাসায়নিক সারে ক্ষতিকারক দিক থাকায় রাসায়নিক সারের বিপ্ররীতে নিরাপদ ফসল ও মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধিতে এ সারের কদর ক্রমাগতই বেড়ে চলেছে। নাসরিন সুলতানা একজন নারী হয়ে যে কর্মদক্ষতা প্রকাশ করেছে সত্যিই এটা প্রশংসনীয়। সে আমার মাধ্যমে কৃষি পুরস্কারে পেতে আগ্রহী। আমার দপ্তরের মাধ্যমে তার সকল কর্মকান্ডের বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Our Like Page
February 2024
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
Messenger
Messenger